ইবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে সকালে তালা, দুপুরে তল্লাশি
সিএইচটি টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : 20-02-2023
ফাইল ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শেখ আবদুস সালামের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা। সোমবার সকাল থেকে সেখানে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন তারা। উপাচার্য শেখ আবদুস সালামের ‘কণ্ঠসদৃশ’ কথোপকথনের তিনটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার জেরে ‘অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদের’ ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।

 

এতে করে প্রশাসন ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে প্রক্টর ও তার সহকারীরা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে তালা খোলার চেষ্টা করলেও খুলতে পারেনি। পরে সাড়ে ১২ টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে ডিভাইস তল্লাশি করেছে প্রক্টর ও পুলিশ ও সিকিউরিটি সেল।

 

এদিকে অডিওতে কথা বলা কণ্ঠটি উপাচার্যের কি না, সেটি যাচাই করা যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

অডিও তিনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের বিষয় নিয়ে নিয়োগপ্রার্থী ও বর্তমানে ওই বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক অলিউর রহমানের সঙ্গে উপাচার্যের ‘কণ্ঠসদৃশ’ ওই ব্যক্তির আলাপন হয়। তবে অডিওতে অলিউর রহমানের কথা শোনা যায়নি।

 

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক শাহাদাত আজাদ ও এস্টেট দপ্তরের প্রধান শামসুজ্জোহা আন্দোলনকারীদের নেতা টিটো মিজান ও রাসেল জোয়ার্দার এর সাথে কথা বলে কার্যালয়ের তালা খুলতে বলেন। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। পরে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কার্যালয়ে তল্লাশি করার কারণে তালা খুলে দেয় আন্দোলনকারীরা।


এদিকে প্রক্টরের নেতৃত্বে এই তল্লাশিতে অংশ নেয় এস্টেট দপ্তরের প্রধান শামসুজ্জোহা, ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আননূর যায়েদ বিপ্লব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি সেল ও সহকারী প্রক্টররা।

 

এ বিষয়ে এস্টেট দপ্তরের প্রধান শামসুজ্জোহা বলেন, 'আমরা ভিসি স্যারের নির্দেশে তল্লাশি করছি। কোন অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায় কি না দেখছি। এখনও তল্লাশি চলছে। এখনও পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি।'

 

উল্লেখ্য, ওই অডিও ক্লিপের সূত্র ধরে অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ ব্যানারে গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত উপাচার্যের কার্যালয় তালাবদ্ধ করে দেন। এ সময় বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন এবং তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন